Thoughts of Aumi

বাংলাদেশ ও ইসলামিক সার্কাস (পর্ব ১)

বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাধারা এবং বর্তমান পরিস্থিতি বড়ই ভয়ংকর। আমরা যখন ছোট থেকে বড় হয়েছি তখন মানুষের যে চিন্তা ধারা ছিল আমরা যেভাবে বড় হয়েছি সেই ধরনের চিন্তাধারা কোন কিছুই এখন নাই। সামাজিক অবস্থাটা হয়েছে এরকম কোন কিছুর নিজের মনের সাথে না মিললেই সেখানে কোন না কোন ভাবে ধর্মকে ঢুকাইয়া ব্যাপারটাকে নিজের মতো করে বানায় নেওয়া হয়। রোজার মাসে যার মন চাইবে রোজা রাখবে, মন না চাইলে রাখবে না। তোরা বিচার করার কে?

হুজুর করলে লীলাখেলা কৃষ্ণ করলে পাপ

দেশের শত শত মাদ্রাসায় ধর্ম শিক্ষার নামে কি চলে তার কোন ইয়ত্তা নাই। সম্প্রতি খবরে যা দেখা যাচ্ছে তাতে বুঝা যাচ্ছে যে আসলে মাদ্রাসায় ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি হুজুরদের লীলা খেলাও চলে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কেউ কোনো কথা বলবে না, কারণ এটা নিয়ে কথা বললে পাপ হবে, ধর্ম অবমাননা হবে। আন্দোলন হবে কিন্তু হুজুরদের এগুলা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলবে না কারণ তাদের বাপ জামায়াত আছে না।

হুজুরদের মুখে নতুন বুলি ফুটেছে, এইসব ধর্ষণ হত্যা বন্ধ করতে শরিয়াহ আইন দরকার। ভাল কথা। সাধারন মানুষের ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিক জ্ঞান না হয় ভাল না। তাই তারা এইসব অপরাধ করে। কিন্তু রামপুরায় যে মাদ্রাসার হুজুর ছেলে শিশুর পুটকি মেরে ধরা খাইসে সে কোন আইনে পুটকি মারত? কিংবা যেসব মাদ্রাসায় পুটকি মারার খবর প্রকাশ হয় সেখানে কোন আইনে মারে? শরিয়াহ আইন কি শুধু সাধারন মানুষের জন্য? তাহলে এইসব পুটকি মারানিদের নিয়ে হুজুরে আলাদের ধর্মীয় চেতনা খাড়ায় না কেন?

এটাতো গেল নতুন ঘটনা তার আগের অবস্থাতো আরও করুণ রোজায় রাজশাহীতে এগারো বছরের এক মেয়েকে আইসিইউতে পাঠিয়েছিলো আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার প্রধান হুজুর। আইসিইউতে পাঠিয়ে নিজে আবার ইতেকাফে চলে গেছিল।

কুমিল্লার আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার একটা ঘটনা ভাইরাল হলো। সেখানেও মেয়েটা ছাদ থেকে পরে মরে। যার সুষ্ঠু তদন্ত এখনো হয়নি যদিও মেয়েটার গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথ আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছিল।

কিছুক্ষণ আগে দেখি নরসিংদির আরেক আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার হুজুর ১০ বছর বয়সী ছাত্রীকে আইসিইউতে পাঠানোর অবস্থা করেছে। তাও অজ্ঞান করে করে এই নির্যাতন চালিয়েছে ২০ দিন।

এইগুলো গেল আবাসিক মাদ্রাসার কিছু প্রকাশিত ঘটনা। এর বাইরে অপ্রকাশিত কতো শত আছে তার হিসাব নাই।

ছেলে শিশুদের পাছার প্রতি এক শ্রেনীর মোল্লাদের ফেটিশ দেখলে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়। কিছুদিন পরপরই কাগজে ছেলেদের পাছা মারার নিউজ ভাইরাল হয়। আর সেই অপরাধীকে ধরলেই বলে শয়তানের পাল্লায় পড়ে করেছে। শয়তান তার কাছে আসে নাকি নিজেই শয়তান সেটা আল্লাহ ভাল বলতে পারবেন।

যদিও এক শ্রেনীর কট্টরপন্থীরা সারাদিন চিল্লায় আমাদের জেনারেল লাইনের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ছেলেমেয়েরা ইসলামের পথ থেকে সরে যাচ্ছে। তারা কিন্তু আবার এইসব আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ঘটনা কিংবা ছেলেদের ছাপা মারা নিয়ে টুঁ শব্দ করে না। অন্য কেউ কথা বললে তাকে নানান রকম ট্যাগ দিয়ে বেড়ায়। আমার কাছে এরা কোন অংশেই ঐসব শয়তান থেকে কম শয়তান মনে হয় না।

তারা আবার বলবে ধর্ষণ তো এমনিতেই অনেক হচ্ছে। আপনারা শুধু মোল্লাদের নিয়ে কেন বলেন? বলি কারন আমরা তো আপনাদের মতে ধর্ম কর্ম থেকে অনেক দূরে। আপনারা তো সঠিক পথে আছেন। আপনাদেরকে শয়তান এতো লাড়াচাড়া দেয় কেন?

ধর্মের অজুহাতে অধর্ম আর কত…

শুনে মুসলমান নাকি দেখে মুসলমান

Elderly man whispering guidance to young man seated on carpet in mosque
An elder shares advice with a younger man inside a mosque with intricate decor

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এক রাতে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) বহু বিবাহের প্রবর্তক মহানবী সাঃ এর কাছে আসেন এবং তাঁকে ‘বোরাক’ নামক একটি বিশেষ দ্রুতগামী বাহনে করে মক্কার কাবা শরিফ (মসজিদুল হারাম) থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন, যেখানে তিনি ইমামতি করেন।

এরপর মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হয় তাদের মেরাজ ভ্রমণযাত্রা, যা ‘লাইলাতুল মেরাজ’ নামে পরিচিত।

তিনি জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে একের পর এক সাতটি আসমান অতিক্রম করেন। প্রতিটি আসমানে হজরত আদম (আ.), ঈসা (আ.), মুসা (আ.), ইব্রাহিম (আ.)-সহ বিভিন্ন নবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন মহানবী সাঃ.

এরপর তিনি ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত পৌঁছান। জিব্রাইল (আ.) বলেন যে, আল্লাহর কোনো সৃষ্টির এই সীমানা পেরিয়ে সামনে যাওয়ার অনুমতি তাঁর নেই।

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এক রাতে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) বহু বিবাহের প্রবর্তক মহানবী সাঃ এর কাছে আসেন এবং তাঁকে ‘বোরাক’ নামক একটি বিশেষ দ্রুতগামী বাহনে করে মক্কার কাবা শরিফ (মসজিদুল হারাম) থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন, যেখানে তিনি ইমামতি করেন।

এরপর মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হয় তাদের মেরাজ ভ্রমণযাত্রা, যা ‘লাইলাতুল মেরাজ’ নামে পরিচিত।

তিনি জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে একের পর এক সাতটি আসমান অতিক্রম করেন। প্রতিটি আসমানে হজরত আদম (আ.), ঈসা (আ.), মুসা (আ.), ইব্রাহিম (আ.)-সহ বিভিন্ন নবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন মহানবী সাঃ.

এরপর তিনি ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত পৌঁছান। জিব্রাইল (আ.) বলেন যে, আল্লাহর কোনো সৃষ্টির এই সীমানা পেরিয়ে সামনে যাওয়ার অনুমতি তাঁর নেই।

পরে সিদরাতুল মুনতাহা পেরিয়ে মহানবী (সা.) আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছান এবং সরাসরি কথোপকথন করেন।এসব কোনো কথা?

একটা মানুষ বই পত্রে গাঁজাখুরি কথাবার্তা লিখে গেছে দেখে সবার এসব বিলিভ করতে হবে কেন?

আহা, কি কুসুম কুসুম সম্পর্ক…

ভোটে জিতে বিএনপি দেশ চালায় জামায়াত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এক জটিল গোলকধাঁধা। “ভোটে জিতে বিএনপি দেশ চালায় জামায়াত”— এই বহুল প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণটি কেবল একটি দলীয় জোটের গল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে আদর্শিক মেরুকরণ এবং পর্দার আড়ালের শক্তির প্রভাবকে নির্দেশ করে।

মোটা দাগে দেখতে গেলে, এ দেশের মানুষ কখনোই একটি মসৃণ, নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পায়নি। ব্রিটিশ বা পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের যে অবদমনমূলক কাঠামো ছিল, স্বাধীনতার পরও কোনো না কোনো রূপে তার ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে ‘ডিপ স্টেট’ (বা ‘রাষ্ট্রের ভেতরের রাষ্ট্র’ নিয়ে চলমান আলোচনা এই সত্যকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

‘ভোটে জিতে বিএনপি দেশ চালায় জামায়াত’ এই ধারণার উৎপত্তি মূলত ২০০১-২০০৬ সালের চারদলীয় জোট সরকারের আমল থেকে। বিএনপি একটি বড় গণভিত্তিসম্পন্ন দল হলেও, ক্যাডারভিত্তিক ও সাংগঠনিকভাবে সুশৃঙ্খল জামায়াতে ইসলামীর ওপর তাদের এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, ভোটের অংকে জেতার জন্য বিএনপি জামায়াতকে সাথে নিলেও, জামায়াত তাদের দীর্ঘমেয়াদী আদর্শিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করতে পেরেছিল। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেক্যুলার বনাম ধর্মীয় মেরুকরণকে চূড়ান্ত রূপ দেয়, যার খেসারত দেশকে দীর্ঘদিন দিতে হয়েছে। যা ২০২৪ আন্দোলন পরবর্তী দেশের অবস্থায় জামায়াত সবখানে সয়লাব। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একটি একদলীয় বা কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পতনের পর এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিপ স্টেট’।

নির্বাচিত সরকারের সমান্তরালে বা পর্দার আড়ালে সক্রিয় থাকা এমন একটি স্থায়ী চক্র (আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক ও বেসামরিক নীতিনির্ধারক এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী), যারা দৃশ্যমান রাজনীতির বাইরে থেকে রাষ্ট্রের আসল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, দৃশ্যমান রাজনৈতিক দল বা নেতাদের পতন হলেও ভেতরের এই ‘ডিপ স্টেট’ বা স্থায়ী শাসনকাঠামো সহজে ভাঙা যায় না। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদেশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও দেশের নীতি নির্ধারক জামায়াত।

১৯৭১ সালে একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো রয়ে গেছে সেই পাকিস্তানি আমলের ঔপনিবেশিক ধাঁচেই। আজও এমন বহু আইন কার্যকর আছে যা নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়ার চেয়ে রাষ্ট্র বা শাসক শ্রেণীকে রক্ষা করতে বেশি ব্যবহৃত হয়। ক্ষমতার চেয়ারে যে দলই বসুক না কেন, তাদের আচরণে প্রায়শই এক ধরনের ঔপনিবেশিক ‘প্রভুত্ববাদী’ মানসিকতা প্রকাশ পায়, যেখানে জনগণকে অংশীদার না ভেবে ‘প্রজা’ ভাবা হয়।